প্রকাশ: ... | ... | ...

কৃষকের হাতে সার নেই, ডিলার নিয়োগে ১২ লাখ টাকার বাণিজ্য


সংযুক্ত ছবি

কৃষকের হাতে সার নেই, ডিলার নিয়োগে ১২ লাখ টাকার বাণিজ্য | ছবি: সংগৃহীত

দেশে কাগজে-কলমে সারের পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে মাঠপর্যায়ে কৃষকরা তীব্র সংকটে রয়েছেন—জাতীয় সংসদে এমন অভিযোগ করেছেন পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. শফিকুল ইসলাম। বুধবার জাতীয় সংসদে ৬৮ বিধির আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি সারের কৃত্রিম সংকট, অনিয়ম এবং ডিলার নিয়োগে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ তোলেন। শফিকুল ইসলাম বলেন, দেশে সার সংকট নেই বলা হলেও বাস্তবে মূল সমস্যা সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাব। বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে তিনি দাবি করেন, কৃষকরা নির্ধারিত দামের চেয়ে বস্তাপ্রতি ৩০০ থেকে ৮০০ টাকা বেশি দিয়েও অনেক সময় সার পাচ্ছেন না। সারের দাবিতে ঝিনাইদহে সড়ক অবরোধের ঘটনাও তুলে ধরেন তিনি। ডিলার নিয়োগ নিয়েও গুরুতর অভিযোগ করেন এই সংসদ সদস্য। তার দাবি, স্থানীয় প্রশাসন বা সংসদ সদস্যদের সুপারিশ করা তালিকাকে পাশ কাটিয়ে একটি অসাধু চক্র ১০ থেকে ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে ডিলারশিপ বাণিজ্য করছে। অনেক ডিলার নিজেরা ব্যবসা না করে স্বজনদের নামে লাইসেন্স রেখে কমিশন নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। কুড়িগ্রামে অবৈধভাবে মজুত করা সার জব্দ এবং গোডাউন ভেঙে কৃষকদের সার নেওয়ার ঘটনাকে মাঠপর্যায়ের সংকটের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন শফিকুল ইসলাম। এ ছাড়া সীমান্ত দিয়ে ভর্তুকির সার পাচার এবং এর বিনিময়ে ইয়াবা ও আইসের মতো মাদক দেশে আসার অভিযোগও সংসদে তুলে ধরেন তিনি। নিজের কৃষক পরিচয়ের কথা স্মরণ করে শফিকুল ইসলাম বলেন, অন্যায় ও স্বজনপ্রীতি দূর করা না গেলে প্রকৃত সংস্কার সম্ভব নয়। কৃষকদের রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘খাদ্য যোদ্ধা’ উপাধিতে ভূষিত করার দাবিও জানান তিনি। বোরো মৌসুম শুরুর আগেই ইউরিয়া, ডিএপি ও টিএসপি সার বিতরণে ডিলার পর্যায়ে কঠোর নজরদারি, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং দেশীয় সার উৎপাদন বাড়ানোর আহ্বান জানান এই সংসদ সদস্য। তবে সংসদে উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ডিলার বা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।